শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরেক মামলা
২৬ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
শেখ হাসিনা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদসহ ১০৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে চট্টগ্রামে মামলা করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্র ওয়াসিম আকরামকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় এ মামলা করা হয়।
রবিবার (১৮ আগস্ট) রাতে নিহত ওয়াসিমের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পাঁচলাইশ থানার ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলায় বাকি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সাবেক এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চু, আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, ২১নং জামালখান ওয়ার্ড চসিক কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, ২৫ নং রামপুরা ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটন, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এসরারুল হক, ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক আলী, ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুন অর রশীদ, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোরশেদুল আলম, ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনু, ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, ৩২নং আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহুরলাল হাজারী, ৩৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, ৩৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন, ৩৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পুলক খাস্তগীর। ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল আলম মিয়া, ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ওয়াসিম, ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সালাম মাসুদসহ ১০৮ জনের নাম উল্লেখসহ ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আমার ছেলে ওয়াসিমকে চট্টগ্রাম কলেজের নিয়মিত ছাত্র ছিল। গত ১৬ জুলাই নগরীর মুরাদপুর মোড়ে ছাত্র-ছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশগ্রহণের উদ্দেশে মুরাদপুর বারকোড রেস্টুরেন্টের সামনে অবস্থান করছিল। ওই দিন মুরাদপুরে ছাত্র-জনতার মিটিং চলাকালীন আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে সারা দেশের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগের ক্যাডাররা মারাত্মক অস্ত্রসস্ত্রসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ওই দিন বিকাল ৪টায় আমার নিরস্ত্র ছেলেটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকাকালীন সময়ে আসামিদের নির্দেশে এবং তাদের মুহুর্মুহু বোমা বিস্ফোরণ ও লাঠিসোঁটা, হকিস্টিকও কিরিচ ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সমাবেশে আক্রমণ করে।
এক পর্যায়ে আসামিদের ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে আমার ছেলের বুকে ও নাভীতে বিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে এবং ওই এলাকায় আসামিরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে থাকে। তাদের গুলিতে ও বোমা বিস্ফোরণে প্রচুর লোক হতাহত হয়। আমার ছেলেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছাত্রছাত্রীরা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
উল্লেখ্য, তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দেশত্যাগের পর আত্মগোপনে রয়েছেন দলটির মন্ত্রী-এমপি ও নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে মন্ত্রী-এমপি কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ ও স্থানীয় নেতাদের আসামি করে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে।
#NP/SR24