'যক্ষা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিকদের করণীয় শীর্ষক' আলোচনা সভা
৯ দিন আগে বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
সাংবাদিকদের করণীয় শীর্ষক' আলোচনা সভা
সাইফুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি ।।
'যক্ষা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিকদের করণীয় শীর্ষক' আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে কুমিল্লা নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি কুমিল্লা জেলা শাখার উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়৷
অনুষ্ঠানের শুরুতেই যক্ষা নিরাময় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন অনুষ্ঠানের মূখ্য আলোচক বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের কনসালটেন্ট ডা. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, যক্ষা আক্রান্তের হার গত ৮ বছরে কোনো পরিবর্তন হয় নি। কিন্তু আক্রান্তের হার না কমলেও চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমরা এই হার কমিয়ে আনতে পেরেছি৷ যক্ষা রোগে আক্রান্তে যারা চিকিৎসার আওতায় আসে তাদের সুস্থ্য হবার সম্ভাবনা ৯৫ পার্সেন্ট। যক্ষা ছোঁয়াছে রোগ। এটা মূলত হাঁচি কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। আর এর মূল কারণ হচ্ছে চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে। যারা চিকিৎসা নেয় না, তাদের মাধ্যমে নতুন রোগী আক্রান্ত হয়। যার কারণে আমরা আক্রান্তের হার কমাতে পারছি না। তাই চিকিৎসার আওতায় যদি ১০০ ভাগকে আনা যায়, তাহলে যক্ষা আক্রান্তের হার কমানো যাবে। যক্ষা আবার দু ধরণের। এর মধ্যে আমাদের মূল লক্ষ্য থাকে ফুসফুসে যক্ষার প্রতি। যক্ষার ঔষধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়৷ তাই সাংবাদিকরা যদি লেখালেখির মাধ্যমে এই বিষয়গুলো সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেয় তাহলে যক্ষা আক্রান্তের হার কমে যাবে। যাদের শরীরে ইমিউনিটি কমে যায় তাদের যক্ষা হয়। এছাড়াও ধূমপানের কারণেও হয়। আর আমরা যক্ষা হলেই শুধু ঔষধ দিই এমন নয়, যক্ষার প্রতিরোধমূলক ঔষধও বিনামূল্যে দিয়ে থাকি। এছাড়াও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যদি হয়ে থাকে আমরা সেটার চিকিৎসাও দিয়ে থাকি। যক্ষা রোগ হলে এখন ভর্তির প্রয়োজনও হয় না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঔষধ দিয়ে আসা হয়। কুমিল্লা শহরের প্রতিটি উপজেলাতেই ডায়াগনোসিস সম্ভব এখন৷ চিকিৎসা বিনামূল্যের পাশাপাশি কিছু গরীব রোগী থাকলে তাদেরকে আর্থিক সহায়তাও করা হয় ব্র্যাকের মাধ্যমে।
২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলায় ৪ হাজার ৬'শ ৯৩ জন যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়েছে৷ এর মধ্যে কফের মধ্যে জীবানু পাওয়া গেছে ২ হাজার ২'শ ৪১ জন রোগীর। আর এক্সরে'র মাধ্যমে যক্ষা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৬৬ জন। আর এমডিআর শনাক্ত হয়েছে ৩৯ জনের শরীরে। আর জেলায় ২০২৪ সালে যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে ৯১ জন। এর মধ্যে কফে জীবাণু পাওয়া যায় যাদের তাদের মাধ্যমে এ রোগ অন্য কারো শরীরে ছড়াতে পারে। তাই যাদের শরীরে জীবানু পাওয়া যাবে তাদেরকে কমপক্ষে দুইমাস আলাদা ঘরে রাখতে হবে।
এসময়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. রেজা মোঃ সারওয়ার আকবর। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৮ বছরে যক্ষা আক্রান্তের হার শূন্য পার্সেন্ট। চিকিৎসা গ্যাপ থাকায় এমনটা হচ্ছে। অনেক যক্ষা রোগী স্বীকারই করতে চান না যে তার যক্ষা আছে। এই কাজ করা যাবে না। এছাড়াও, যক্ষা হলে যে রক্ষা আছে এটা মিডিয়ার মাধ্যমে সবাইকে জানাতে হবে। আমরা সচেতন না হলে আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে৷ তাই আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে এই রোগ প্রতিরোধে কাজ করে যাবো।
এসময়, অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি নাটাব কুমিল্লার মূখ্য সংগঠক ও কুমিলা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অনেক বড় বড় রোগের ঔষধ নেই। কিন্তু, সেই জায়গায় যক্ষার ঔষধ আছে। এবং কি তা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে৷ কারো যদি তিন সপ্তাহের বেশী কাশি থাকে তাদের কফ পরীক্ষা করানো উচিত৷ যেখানে সেখানে থু থু ফেলা যাবে না। সবাই এই বিষয়ে সচেতন থাকবেন। এছাড়া শিশুর ৬ মাসে টিকা দিলে যক্ষা রোগ থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকা যাবে।
এসময়, নাটাব কুমিল্লার সভাপতি ডা. গোলাম শাহজাহান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরানের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক জামিল আহমেদ খন্দকার, নাটাব কুমিল্লার সহ সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আতোয়ার রহমানসহ কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ৷