জুলাইজুড়ে বৃষ্টির আভাস: উত্তর-উত্তরপূর্বাঞ্চলে কাটেনি বন্যার শঙ্কা
২১ দিন আগে
বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬
ইবনুল হাসান রায়হান - কুমিল্লা
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিস্তা, ধরলা, সুরমা ও উপদাখালীসহ বিভিন্ন নদীর পানি কোথাও বিপৎসীমার কাছাকাছি, আবার কোথাও কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি। নদীভাঙন আর নিম্নাঞ্চল প্লাবনের আশঙ্কায় নদীতীরের বাসিন্দারা।
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে বুধবার সকালে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে। এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজের সব জলকপাট খোলা রাখা হয়েছে।
নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকার কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করায় পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে ভেঙে পড়ছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও। ভাঙনের তীব্রতা বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
নীলফামারী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম যাকারিয়া বলেন, ‘স্থানীয়দের সচেতন করার পাশাপাশি ভাঙনের তীব্রতা কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
নদ-নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়ার নিম্নাঞ্চলে এখনও পানিবন্দি প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ সড়ক। এদিকে, কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন বেড়েছে। পানি কমতে শুরু করলেও ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমার নদীর অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা এখনও কাটেনি।
এদিকে, গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও ৪০টি পয়েন্টে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সাত শতাধিক পরিবারকে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন।
সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। তবে শুক্রবার থেকে আবারও বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। নেত্রকোণায় উপদাখালী নদীর পানি কমলেও ধনু ও মগড়া নদীর পানি বাড়ছে।
এদিকে শেরপুরে সব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে উজানে ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।