জুলাই আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ৪ আগস্ট : উদবাতুল বারী আবু

Megna Tv

৫ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬


#
ইবনুল হাসান রায়হান - কুমিল্লা

চব্বিশের আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু বলেন, জুলাই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় জীবনের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। সেই সময় আমরা মহানগর বিএনপি এবং বিএনপির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়াই। শুরু থেকেই আমাদের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল এবং আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি।



আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেদিন রাত থেকেই আমাদের নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় পুলিশ অভিযান চালায়, হয়রানি ও নির্যাতন শুরু করে। বাধ্য হয়ে আমরা আত্মগোপনে চলে যাই। আত্মগোপনে থেকেও কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করা এবং রাজপথে ছাত্রদের পাশে থাকা।

জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় আমরা পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে ছিলাম। আমার সঙ্গে ছিলেন বর্তমান দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি ওয়াসিম ভাই, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, তিন নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিল্পী ভাই, দশ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জহির ভাইসহ আরও অনেকে। সেখান থেকেই আমরা প্রতিদিন আন্দোলনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতাম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচিতে অংশ নিতাম।

                                                               ‘আত্মগোপনে থেকেও ছাত্রদের আন্দোলনে পাশে ছিল বিএনপি’ : উদবাতুল বারী আবু



তিন আগস্ট কুমিল্লায় ছাত্রীদের ওপর যে ন্যাক্কারজনক হামলা হয়, তা পুরো দেশকে নাড়া দেয়। এরপর কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আসে, চার আগস্ট বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজপথে থাকতে হবে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অবস্থান নিই। সেখান থেকে নাজিরাবাজার হয়ে আলেখারচর বিশ্বরোডে ছাত্রজনতার মিছিলের সঙ্গে আমরা একত্রিত হই।



মিছিলে যোগ দেওয়ার পরপরই তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শক্তির সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। একপর্যায়ে আমরা পিছু হটতে হটতে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের প্রধান ফটকের সামনে চলে আসি। সেখানেও তারা সেনাবাহিনীর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছাত্রজনতার ওপর গুলি চালাতে থাকে। তখন আমরা সেনাবাহিনীর সামনে প্রতিবাদ জানাই এবং তাদের কাছে ছাত্রদের জীবন রক্ষার আহ্বান জানাই। দেশপ্রেমিক সেনাসদস্যরা এগিয়ে আসেন এবং আমাদের সঙ্গে নিয়ে আলেখারচর বিশ্বরোডে যান। সেখানেও সন্ত্রাসীরা গুলি চালালে সেনাবাহিনী তার জবাব দেয়। এরপর ছাত্রজনতার সঙ্গে আমরা তাদের সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য করি এবং সারাদিন আলেখারচর বিশ্বরোডে অবস্থান করি।



আমার কাছে চার আগস্টের সেই ঘটনাই ছিল আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। কারণ, সেদিন সেনাবাহিনী ছাত্রজনতার নিরাপত্তার জন্য এগিয়ে এসেছিল। এই ঘটনার খবর দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঢাকা, মিরপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও সেনাবাহিনী ছাত্রজনতার পাশে দাঁড়ায়। আন্দোলনের গতিপথ বদলে যাওয়ার পেছনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল বলে আমি মনে করি।



আন্দোলনের সময় যারা আহত হয়েছিলেন, তাদের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক শুভ, আবিরসহ আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। আমরা আর্থিক, মানসিক ও মানবিক সব ধরনের সহযোগিতা করেছি। অনেক আহতকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব ছিল না। তাই নিরাপদ বিভিন্ন বাসায় তাদের আশ্রয় দিয়ে চিকিৎসকদের ডেকে এনে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।



অনেক নেতাকর্মী তখন পুলিশের টার্গেটে ছিলেন। অনেকে গ্রেপ্তারও হন। যারা কারাগারে ছিলেন, তাদের প্রয়োজনীয় খরচের জন্য আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সহায়তা করেছি। যারা আত্মগোপনে ছিলেন বা নিজ বাড়িতে থাকতে পারছিলেন না, তাদের জন্য বিকল্প নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করারও চেষ্টা করেছি। আমরা নিজেরাও প্রতিদিন রাত আত্মগোপনে কাটিয়ে সকালে আবার রাজপথে ফিরে আসতাম এবং আন্দোলনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে অংশ নিতাম।



জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার বার্তা হলো, বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রসমাজ সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে। বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানও সেই ইতিহাসেরই অংশ। যখনই দেশের মানুষের ওপর অন্যায়-অবিচার নেমে এসেছে, তখনই তরুণরা প্রতিবাদে সামনে এসেছে।



আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা নিজেদের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করবে, এই আশা, আস্থা ও বিশ্বাস আমি তাদের প্রতি রাখি।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
#

বেগম জিয়া ও বাংলাদেশ নিয়ে আবেগঘন পোস্ট জাইমা রহমানের

#

পৌনে ৭ লাখ ভোটারকে পোস্টাল ব্যালট পাঠাল ইসি

#

বুয়েটের আবরার ফাহাদের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রুল

#

বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালন শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

#

খেলাধুলার চর্চা নেই বলে সন্ত্রাস-মাদক-চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে: মির্জা আব্বাস

#

বিএনপির নামে কেউ অপরাধ করলে আইনের হাতে সোপর্দ করুন : তারেক জিয়া

#

ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল শাহবাগ

#

খোকসায় দুই হাজার দুস্থ পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন মেয়র প্রার্থী রিপন হোসেন

#

শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলা সেই আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

#

চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডিকে দিতে হবে ১৫ বছরের আয়ের হিসাব, পদত্যাগে আলটিমেটাম

সর্বশেষ

#

ছাত্রদল নেতার মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও

#

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, তবে আঘাত আসলে প্রতিহত: শফিকুর রহমান

#

সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি না থাকায় নাহিদের ক্ষোভ

#

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে ‎‎কুমিল্লায় ১১ দলের সমাবেশ ও গণমিছিল

#

প্রয়োজনে সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে: জামায়াত আমির

#

ফ্যাসিস্টের বিদায়ের পর মামলা বানিজ্য আমাদের মাঝে অনৈক্য সৃষ্টি করেছে- মনিরুল হক চৌধুরী

#

পথ হারালে এই জাদুঘরেই খুঁজে নেব নতুন পথ: ড. ইউনূস

#

জুলাই আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ৪ আগস্ট : উদবাতুল বারী আবু

#

জবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

#

জবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

Link copied