গ্রামে বিদ্যুৎ এখন ‘অতিথি’
১৮ দিন আগে শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
গ্রাহক পর্যায়ে গত জুনে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ দাম বৃদ্ধির পরও মানুষের কষ্ট কাটছে না। বর্ষা মৌসুমের শেষ লগ্নে এমনিতে ভ্যাপসা গরম, তার ওপর দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি শহরে কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও গ্রামের অবস্থা খুবই করুণ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাচ্ছে গ্রামের মানুষ।
সাম্প্রতিক এই লোডশেডিংয়ের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জ্বালানি সংকট। গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেটর এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে চরম অবনতি হয়। যার প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ খাতে। প্রায় ৫০০ মিলিয়ন সমপরিমাণ গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বাড়তে থাকে।
তবে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের আশার কথা শুনিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, সামিট টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাস করতে না পারা এবং এক্সিলারেট টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে না পারায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলা করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে আমরা একটি কৌশল নিয়েছি। আশা করছি সন্ধ্যা (গতকাল) থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে।
কমে আসছে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন: শুধু আমদানিকৃত গ্যাসই নয়; দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদনও দিন দিন কমে আসছে। দেশে অবস্থিত ২২টি প্রাকৃতিক গ্যাসকূপের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। রাষ্ট্রায়ত্ত এসব কূপ থেকে দৈনিক উৎপাদন করা হয় ৯০০ থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। চাহিদার বাকি অংশ পূরণ করতে সমপরিমাণ গ্যাস আমদানিকৃত এলএনজি থেকে মেটানো হয়।
পেট্রোবাংলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত ও সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। মার্কিন কোম্পানি শেভরনের অধীনে থাকা দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসকূপ বিবিয়ানা থেকে গত বছর উৎপাদিত হয়েছিল ৯১৪ মিলিয়ন ঘনফুট, যা এ বছরে নেমে এসেছে ৭৩৮ মিলিয়ন ঘনফুটে। আরেক বড় গ্যাসকূপ জালালাবাদের উৎপাদনও কমে এসেছে। বছরের ব্যবধানে জালালাবাদের উৎপাদন ১৩০ মিলিয়ন ঘনফুট
থেকে কমে ১২৩ মিলিয়ন ঘনফুটে এসে ঠেকেছে।
লোডশেডিংয়ে অতীতের রেকর্ড ভেঙেছে: সাম্প্রতিক সময়ের লোডশেডিংয়ের তীব্রতা ভেঙে ফেলছে অতীতের রেকর্ড। বর্তমানে গড়ে লোডশেডিং হচ্ছে তিন হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের ২৭ জুন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট। গত রোববার বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। রাত ১টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে। পরদিন সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। এর আগে ৩ আগস্ট রাত ১টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট।
দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ৯৭৫ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৮৩৩ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ১৪২ মেগাওয়াট। গতকাল বুধবার রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ১৪৬ মেগাওয়াট।